
শাহাদাৎ হোসেন সরকারঃ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজধানীর উপকণ্ঠ আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত ডক্টরস জেনারেল হসপিটাল–এ চিকিৎসার নামে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অর্থ আদায় এবং অপারেশনের নামে সাজানো ফটোশুটের মতো চাঞ্চল্যকর কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হাসপাতালটির নামে পরিচালিত ফেসবুক পেজ ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপারেশনের দৃশ্য বলে প্রচারিত যেসব ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, তার অধিকাংশই ছিল সাজানো।
ছবিতে দেখা যাওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেউই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক স্বীকৃত কোনো চিকিৎসক বা নিবন্ধিত নার্স নন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালটি নানা ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
বিশেষ করে, সাধারণ রোগীদেরকে ভয় দেখিয়ে অবৈধভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার বিল আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। হাসপাতালে গেলে ভয় দেখিয়ে বলে বড় সমস্যা, অপারেশন লাগবে।
ভয়ে কিছু বুঝে উঠার আগেই মোটা অঙ্কের টাকা নেয়। পরে অন্য চিকিৎসকের কাছে গিয়ে বুঝতে পারি, বিষয়টি অতটা গুরুতর ছিল না।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী, চিকিৎসা কার্যক্রমের ছবি বা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
অপারেশন থিয়েটার কিংবা রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত গোপনীয়তা রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। তা সত্ত্বেও হাসপাতালটি এ বিধিনিষেধকে উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে এসব ছবি প্রচার করে আইনের লঙ্ঘন করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যদি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ধরনের অপেশাদার ও প্রতারক প্রতিষ্ঠান দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য হুমকি স্বরূপ।”
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আশুলিয়ার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতাল যদি এমন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালায়, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে তারা।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল দ্রুত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের আহ্বান, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও প্রতারক হাসপাতালটি দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হোক।