
নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুরের কাশিমপুরে এক পোশাকশ্রমিককে গণধর্ষণ, অশ্লীল ভিডিও ধারণ ও বিকাশের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আসামিরা গ্রেপ্তার হলেও ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
গত ২১ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কাশিমপুর থানার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা টেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রেখা খাতুন (২৭) কাশিমপুর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) অজয় চন্দ্র রায়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট পুলিশ শাহিন ও রায়হান এবং ২৯ আগস্ট জিসান ও তুহিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন এক পরিচিত বন্ধুকে এক হাজার টাকা ধার দেওয়ার জন্য বের হলে দুর্বৃত্তরা তাকে সড়ক থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে মুক্তিযোদ্ধা টেক এলাকার একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় তার অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের দাবি, পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৪৬ হাজার টাকা আদায় করা হয়। ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেওয়ার সময় বিষয়টি পুলিশকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শাহিন (২৮), রায়হান (২৬), জিসান (২৫) ও তুহিন (২৬)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা কাশিমপুর থানার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা টেক এলাকার বাসিন্দা।
এ বিষয়ে কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা মো. খালিদ হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের ২৯ আগস্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
র দাবি জানিয়েছেন।