
নিজস্ব প্রতিনিধি
গাজীপুরের কাশিমপুরের বারেন্ডা এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে। এ সময় জমিতে থাকা স্থাপনা ভাঙতে এক্সকাভেটর (ভেকু) নিয়ে গেলে বাধা দেন জমির মালিক হেলাল মন্ডল।
হেলাল মন্ডলের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণের জন্য কিছুদিন আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই সীমানা মেনে নিতে রাজি ছিলেন জমির মালিকরা। তবে পরবর্তীতে নির্ধারিত সীমানা অনুসরণ না করে তার ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মাঝখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের লোকজন একটি এক্সকাভেটর নিয়ে ওই এলাকায় যান। তারা হেলাল মন্ডলের জমিতে থাকা স্থাপনা ভাঙার উদ্যোগ নিলে তিনি বাধা দেন।
জমির মালিক হেলাল মন্ডল বলেন, “রাস্তা নির্মাণের জন্য কিছুদিন আগে যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল, আমরা সেটি মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু এখন সেই সীমানা অনুসরণ না করে আমার জমির মাঝখান দিয়ে রাস্তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আজ সিটি করপোরেশনের লোকজন ভেকু নিয়ে এসে আমার জমির স্থাপনা ভাঙতে গেলে আমি বাধা দিই।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা রাস্তা নির্মাণের বিরোধিতা করছি না। এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তা প্রয়োজন হলে রাস্তা হোক। কিন্তু আমার ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মাঝখান দিয়ে জোর করে রাস্তা নেওয়া যাবে না। জমি প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হোক।”
হেলাল মন্ডলের দাবি, “আমরা কোনো ক্ষতিপূরণ চাই না। আমাদের দাবি হচ্ছে, জোরপূর্বক আমাদের জমি ব্যবহার করা যাবে না। আগে যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেটি অনুসরণ করেই রাস্তা নির্মাণ করা হোক।”
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, রাস্তা নির্মাণের জন্য আগে সীমানা নির্ধারণ করা হয়ে থাকলে পরবর্তীতে সেই সীমানা পরিবর্তনের কারণ কী, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এলাকার উন্নয়নের জন্য রাস্তা প্রয়োজন। কিন্তু রাস্তা করতে গিয়ে কারও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মাঝখান দিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ হলে বিরোধ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। আগে যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেটি অনুসরণ করা উচিত।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাস্তার জন্য জমি প্রয়োজন হলে জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব। কোনো ব্যক্তির জমিতে ভেকু নিয়ে গিয়ে স্থাপনা ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।”
স্থানীয়দের দাবি, ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। পূর্বনির্ধারিত সীমানা অনুসরণ না করে নতুন করে জমির মাঝখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কোনো প্রভাব বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জমির মালিকদের বক্তব্য, তারা রাস্তা নির্মাণের বিরোধিতা করছেন না। তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ তারা মেনে নেবেন না। পূর্বনির্ধারিত সীমানা অনুসরণ অথবা সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।