
গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরে প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জমজমাট ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়, খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য ও টানটান উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ প্রতিযোগিতা। ফাইনালে টাইব্রেকারে ৭-৮ গোলে জয়লাভ করে টঙ্গী দল।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গিয়াস উদ্দিন সরকার ফুটবল মাঠে এ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা ঘিরে সকাল থেকেই এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঠে বাড়তে থাকে দর্শকদের ভিড়। একপর্যায়ে ফুটবলপ্রেমীদের উপস্থিতিতে মাঠের চারপাশ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর মহানগর প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোঃ শওকত হোসেন সরকার। এ সময় গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল ইসলামসহ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ক্রীড়াপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।
ফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে চলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে খেলা। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচের নিষ্পত্তি না হওয়ায় টাইব্রেকারের আশ্রয় নিতে হয়। সেখানে ৭-৮ গোলে জয় নিশ্চিত করে টঙ্গী দল। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর টঙ্গী দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে।
খেলা দেখতে কাশিমপুরের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও ফুটবলপ্রেমীরা মাঠে আসেন। প্রিয় দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ ফাইনাল ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণদের মাদকাসক্তি ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং দলগত মনোভাব গড়ে তোলা সম্ভব।
ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা, গাজীপুর মহানগরে নিয়মিত এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।