
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন ৩ নং ওয়ার্ডের বারেন্দা এলাকায় কাশিমপুর প্রি-ক্যাডেট অ্যান্ড হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার হল থেকে এক এতিম ছাত্রীকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বকেয়া বেতনের টাকা দিতে না পারায় ওই ছাত্রীকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী মোসাম্মদ রিফা মনি।
শিক্ষার্থীর অভিযোগ, মা-বাবা না থাকায় চার বছর আগে তাঁকে বিনা বেতনে পড়ানোর আশ্বাস দিয়ে বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি ওই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে আসছেন। তবে সম্প্রতি এসএসসি টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে বকেয়া বেতনের টাকা দাবি করায় তিনি বিপাকে পড়েন।
রিফা মনির অভিযোগ, পরীক্ষার দিন তিনি বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার কক্ষে পরীক্ষা দিতে গেলে তাঁকে উত্তরপত্র দেওয়া হয়। পরে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে একজন সহকারী শিক্ষক তাঁকে পরীক্ষার হল থেকে ডেকে অফিসকক্ষে নিয়ে যান। সেখানে বকেয়া বেতনের টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় তাঁকে পরীক্ষা দিতে না দিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিনা বেতনে পড়াশোনা করে আসছিলেন এবং পরীক্ষার ফি পরিশোধ করতেন। কিন্তু টেস্ট পরীক্ষার সময় বকেয়া বেতনের টাকা দাবি করায় তাঁর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ওই ছাত্রীকে দুই বছর বিনা বেতনে পড়ানো হয়েছে। এখন আর বিনা বেতনে পড়ানো হবে না।
এ সময় তিনি নিজেই ওই ছাত্রীকে টেস্ট পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। বকেয়া টাকার কারণে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও তাঁর পরিচিতজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের মতে, মা-বাবাহীন একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা জরুরি। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ধাপে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া ওই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।
এদিকে, শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যাতে ব্যাহত না হয় এবং তিনি নির্বিঘ্নে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারী।