
কোনাবাড়ী প্রতিনিধি
গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন তারেকের বিরুদ্ধে তানিশার দায়ের করা লিখিত অভিযোগ ঘিরে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের সময়, প্রেক্ষাপট ও সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। তাঁদের দাবি, ঘটনার পেছনে কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা কিংবা হানিট্র্যাপের মতো কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযোগে উল্লেখ করা ঘটনার প্রায় এক বছর পাঁচ মাস পর কেন অভিযোগ দায়ের করা হলো? এতদিন পর হঠাৎ করে একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনার কারণ কী? দীর্ঘ সময় পর অভিযোগ দায়েরের পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে অভিযোগপত্রে অভিযোগকারী তানিশার যে মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে, সেই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের বিস্তারিত প্রেক্ষাপট এবং অভিযোগকারীর বক্তব্য জানা যায়নি।
স্থানীয়দের কয়েকজনের দাবি, ওসি ইফতেখার হোসেন তারেকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নেপথ্যে হানিট্র্যাপের মতো কোনো ঘটনা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কারও মানসম্মান ক্ষুণ্ন হয়, এমন প্রচারণা থেকেও বিরত থাকা প্রয়োজন।
স্থানীয় কয়েকজন আরও জানান, ওসি ইফতেখার হোসেন তারেককে তাঁরা একজন ভালো ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে দেখেছেন। তাঁদের দাবি, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা জরুরি।
তবে অভিযোগকারীর মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া কিংবা দীর্ঘ সময় পর অভিযোগ দায়ের করা—কোনোটিই অভিযোগ মিথ্যা হওয়ার প্রমাণ নয়। একইভাবে হানিট্র্যাপের আশঙ্কার পক্ষেও এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী তানিশার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ওসি ইফতেখার হোসেন তারেকের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কোনো পক্ষের প্রতি পক্ষপাত না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরা হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক, আর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া না গেলে কারও ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হোক।
অভিযোগ নয়, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই বেরিয়ে আসুক প্রকৃত সত্য এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।