
স্টাফ রিপোর্টার মোঃ জামাল আহমেদ
আশুলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক সময়ের আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা এখন বিএনপির দাবিদার হয়ে উঠেছেন।
এই পালাবদল নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যারা দলের প্রধান সেনাপতির ভূমিকা পালন করতেন, তারাই এখন বিএনপির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।
ঢাকা-১৯ আসনের (সাভার-আশুলিয়া) সাবেক সংসদ সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্বাচনে দলের প্রধান সেনাপতির ভূমিকা পালন করতেন ।
তিনি আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন ।
কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি এবং তার সহযোগীরা এখন বিএনপির পক্ষে নিজেদের অবস্থান গড়ে তুলছেন।
তাজপুর ও দিয়াখালী এলাকার মূল দায়িত্বে থাকা মোবারক হোসেন এক সময় আওয়ামী লীগের কর্ণধার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে দলের সংগঠক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।
কিন্তু বর্তমানে তিনি বিএনপির দাবিদার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করছেন। মোবারকের এই রাজনৈতিক উল্টোপথে হাঁটাকে স্থানীয়রা সুবিধাবাদী মানসিকতার প্রকাশ বলে মনে করছেন।
আশুলিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ কারী ছাত্র জনতার ওপর হামলা এবং এক শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম, তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদসহ আওয়ামী লীগের ১১৯ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে একাধিক মামলা হয়েছে ।
এরা পলায়নের পর আওয়ামী নেতাদের অনেকেই এখন রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আশুলিয়ার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সুবিধাবাদী নেতাদের এই পালাবদল নতুন নয়।
আওয়ামী লীগের গত ১৫ বছরের শাসনামলে যারা দলের ছত্রছায়ায় থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, তারাই এখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির নেতা সেজে উঠছেন ।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, এই নেতাদের কাছে নীতি-আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থই প্রধান হয়ে উঠেছে।
আশুলিয়ার সাধারণ মানুষ এই সুবিধাবাদী রাজনীতিকে ঘৃণার চোখে দেখছেন।
এক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "যারা গতকাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে গর্ব করতেন, তারাই আজ বিএনপির নেতা হতে চাইছেন। এদের কাছে দল-মত কিছুই নেই, আছে শুধু ক্ষমতা ও অর্থের লোভ।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আশুলিয়ার এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুবিধাবাদী মানসিকতার একটি প্রতিচ্ছবি মাত্র।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এমন নেতাদের দেখা মেলে যারা ক্ষমতার পালাবদলে দল পরিবর্তন করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা বোধ করেন না।
সম্পাদক ও প্রকাশক : জামাল আহমেদ
ই-মেইল : Jamalahammad06@gmail.com
ফোন : 01999909976
Copyright © 2026 দৈনিক সংবাদ বাংলাদেশ. All rights reserved.