
নিজস্ব প্রতিনিধি
গাজীপুরের কাশিমপুরের পশ্চিম পানিশাইল মৌজায় মালিকানা ও সরকারি জমির সীমানা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে আবেদিত পক্ষ আজিজুর রহমান কিরণ জমির সঠিক সীমানা নির্ধারণে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন।
আজ ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুর বারোটার সময় জিরানি বাজার এলাকায় মালিকানা ও সরকারি জমির সীমানা মাপজোপের কার্যক্রম বিকাল তিনটা পর্যন্ত চলছে ।
সরেজমিন তদন্তে দেখা যায় পশ্চিম পানিশাইল মৌজার এসএ ১৮ ও আরএস ৩০ নং খতিয়ানভুক্ত এসএ ১২ ও আরএস ৩৬ নং দাগের জমির পাশে অবস্থিত আরএস ৩৯ নং দাগের ভূমি জিরানী বাজার পেরিফেরির অন্তর্ভুক্ত। ভূমিটি চন্দ্রা–সাভার (ঢাকা–টাঙ্গাইল) মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত।
জমির উত্তর পাশে রয়েছে আরএস ৩৫ দাগের জোত জমি, দক্ষিণে বিকেএসপি’র সীমানা প্রাচীর, পূর্বে জিরানী বাজার পেরিফেরির আরএস ৩৯ দাগ ও তদপূর্বে সওজের রাস্তা; পশ্চিমে রয়েছে ঢাকা জেলার আন্তঃজেলা সীমানা।
রেকর্ডপত্র ও প্রশাসনিক নথি পর্যালোচনায় জানা যায়— আরএস ৩৯ নং দাগটি বন বিভাগের অধীনে, যা আরএস ০২ নং খতিয়ানভুক্ত। ১৯২৭ সালের বন আইন, ১৯৫০ সালের জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২০০১ সালের ৫০১ নং স্মারকের নির্দেশনা অনুযায়ী, জিরানী বাজার সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জমির সীমানা নির্ধারণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর টঙ্গী সহকারী ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সার্ভেয়ার এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল–৮ এর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম খান।
এই সময় আজিজুর রহমান কিরণের ম্যানেজার আতিকুর রহমান জানান দীর্ঘদিন ধরে এই জমির জটিলতায় আমরা ভোগান্তিতে আছি। জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করে রায় পাওয়ার পরও আমার মালিকের জমি বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। মনে হচ্ছে, একটি কুচক্রী মহল আমাদের ক্ষতির চেষ্টা করছে।”
অঞ্চল–৮ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন খান জানান,এ বিষয়ে একটি অভিযোগ এসেছে। তাই সরেজমিনে তদন্তে এসেছি। নথিপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মালিকানা ও সরকারি জমির সীমানা নিয়ে বিভ্রান্তি চলছে। প্রশাসন দ্রুত সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ করলে এলাকার বিরোধ ও উত্তেজনার অবসান ঘটবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।