
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঝালকাঠি কাঁঠালিয়া উপজেলা কৃষি অফিস যেন একক ব্যক্তির দখলে। দীর্ঘ এক যুগ ধরে একই কর্মস্থলে থেকে ক্ষমতার দাপটে অনিয়ম–দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বসির। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও অপরাধ যেন ছায়াসঙ্গী—দলীয় পরিচয় আর প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে আজও অক্ষত তাঁর বেপরোয়া দৌরাত্ম্য।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রণোদনার সার–বীজ বিতরণে প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতা–কর্মী ও নিজের ঘনিষ্ঠজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন বসির। তালিকায় ভুয়া কৃষক দেখিয়ে সরকারি সার–বীজ উত্তোলনের পর তা স্থানীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খোলা বাজারে বিক্রি করা হয়। এতে বঞ্চিত হন প্রকৃত কৃষক—আর মুনাফা যায় ক্ষমতাবানদের হাতে।
দক্ষিণ চেচরি গ্রামের কৃষক মোঃ শাজাহান বলেন, বছরের পর বছর সার–বীজ পাই না। বসির শুধু নিজের দলের লোকদের নামই দেন।
কৃষকদের অভিযোগ—প্রণোদনার তালিকায় নাম তুলতে বসির নেন এক হাজার টাকা করে। প্রদর্শনী প্লটের কৃষকরাও পাচ্ছেন না প্রাপ্য টাকা। মাঠে সমস্যা হলে কৃষকেরা ডাকলেও বসির মাঠে যেতে চান না। উল্টো কৃষকদের গাড়িভাড়া ও অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়।
কৃষক রফিকুল হাওলাদার বলেন, আতআত ছাড়া কিছুই হয় না। এত সম্পদের মালিক হলো কীভাবে?
একই কর্মস্থলে এক যুগ—নানামুখী অপকর্মে জড়িত
সরকারি বিধি অনুযায়ী একই উপজেলায় এতো বছর থাকা অনিয়ম হলেও বসির আছেন এক দশকেরও বেশি সময় ধরে। স্থানীয়দের অভিযোগ—এই সময়ে তিনি গড়ে তুলেছেন ভুয়া তালিকা বাণিজ্য, কালোবাজারি ও আতআত লেনদেনের জাল।
এ বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম বসিরের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন—আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমি ভাণ্ডারিয়া যেতে চাই, জেলা অফিস বদলি দিচ্ছে না।
কাঁঠালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতিমা ইসলাম জানান—লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে কয়েকটি নিউজ দেখেছি তার বিরুদ্ধে, আমি অসুস্থ আছি সুস্থ হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন—এটা আমার দেখার বিষয় না এ বিষয়ে উপজেলা কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন, বলে ফোনটি কেটে দেন।
এক যুগ ধরে কৃষকের হক মেরে দুর্নীতির রাজত্ব—তবু থাকছেন ক্ষমতার আড়ালে। কাঁঠালিয়ার সাধারণ কৃষকদের প্রশ্ন, বসিরের বিরুদ্ধে তদন্ত করে? নাকি প্রভাবশালীর ছায়ায় সব আড়ালেই রয়ে যাবে বিস্তারিত অনুসন্ধানে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : জামাল আহমেদ
ই-মেইল : Jamalahammad06@gmail.com
ফোন : 01999909976
Copyright © 2026 দৈনিক সংবাদ বাংলাদেশ. All rights reserved.