
মোঃ জামাল আহমেদ রিপোর্ট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর-১ আসনে জোরালোভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। এরই মধ্যে সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তার সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণায় ওয়াকিটকি ব্যবহার করতে দেখা গেছে, যা নিয়ে স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় মুজিবুর রহমানের পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগ পরিচালিত হয়। এ সময় তার সহধর্মিণীর নেতৃত্বে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল হাতে ওয়াকিটকি নিয়ে এলাকায় প্রচারণা চালান। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন কামনা করেন।
প্রচারণাকালে দলটির সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় রক্ষায় ওয়াকিটকি ব্যবহার করতে দেখা যায়। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনিক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে ব্যবহৃত যোগাযোগ যন্ত্র নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করা কতটুকু আইনসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাধারণত ওয়াকিটকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়। নির্বাচনী প্রচারণায় এ ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করায় তারা বিভ্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ওয়াকিটকি ব্যবহারকারী ব্যক্তিরা প্রশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিনা, সে বিষয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, স্থানীয়দের একটি অংশ জানান, মুজিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তার প্রতি জনগণের আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত গণসংযোগ, মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি এবং পরিবারের সদস্যদের সরাসরি প্রচারণায় অংশগ্রহণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে তারা মনে করেন।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ব্যবহার নিয়ে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আইনগত বিষয় নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে সাবেক মেয়র মুজিবুর রহমান বা তার সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সচেতন মহল মনে করছে।