
নিজস্ব প্রতিনিধি
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-এ সরকারি রেশন সামগ্রী কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত কারারক্ষী মোঃ রোকনুজ্জামান (বিপি-১২৮৩৭) কে লালমনিরহাট জেলা কারাগার-এ বদলি করা হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পরপরই প্রশাসনের এ পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে—বন্দী ও কারারক্ষীদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন রেশন সামগ্রী নিয়মিতভাবে অনৈতিক উপায়ে বাইরে বিক্রি করা হচ্ছিল। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত কারারক্ষীকে তাৎক্ষণিকভাবে অন্যত্র বদলি করা হয়।
এ ঘটনার জেরে অভিযুক্ত কারারক্ষীর স্ত্রী সালমা বেগম গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)-এর কোনাবাড়ি থানা-এ দুই সংবাদকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা একজনকে বিবাদী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা বলা হলেও স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি—এটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিশোধ হিসেবেই করা হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ। এতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি পাওয়ার অভিযোগে সাংবাদিক সোহবার উদ্দিন মন্ডল নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনাবাড়ি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১২০৯, তারিখ: ২৪/০২/২০২৬) করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন, মিথ্যা অভিযোগের বিচার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।