
আশুলিয়া থানাধীন গাজীরচট, দুই সতীনের পুকুরপাড় এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে প্রকাশ্যেই চলছে মাদক ব্যবসা। স্থানীয়দের অভিযোগ, আ.লীগ সন্ত্রাসী পিস্তল সিয়াম ও কথিত বিএনপি নেতা হুক্কা সোহাগের নিয়ন্ত্রণে এলাকায় একাধিক স্পটে জমজমাটভাবে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মাদক। সন্ধ্যার পর থেকেই এসব এলাকায় বহিরাগত ও স্থানীয় মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীরচটের অলিগলি ও নির্জন পয়েন্টগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অভিযোগ রয়েছে, হুক্কা সোহাগের প্রত্যক্ষ মদদে তার ভাগিনা পিস্তল সিয়াম এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা করছে। এই গ্যাংয়ের সদস্যরা মাদক ব্যবসার পাশাপাশি ছিনতাই, জুয়া, দখল বাণিজ্য এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এই চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও বর্তমানে তারা ভিন্ন পরিচয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই গাজীরচট ও দুই সতীনের পুকুরপাড় এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে মাদক সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় কিশোর ও যুবকদের একটি বড় অংশ এই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, যা সামাজিক পরিবেশকে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, পিস্তল সিয়াম ও হুক্কা সোহাগের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই হুমকি দেওয়া হয়। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একজন বাসিন্দা বলেন, “ওদের ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। এলাকার পরিবেশ দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে, আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা অধিকাংশ সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। ফলে অভিযানের পরও বন্ধ হচ্ছে না মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম।
আশুলিয়ার সচেতন মহল দ্রুত গাজীরচট এলাকায় নিয়মিত টহল ও চিরুনি অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই এলাকা আরও ভয়াবহ অপরাধপ্রবণ অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।
মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। মাদক সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে নিকটস্থ থানায় অথবা ৯৯৯-এ কল করে জানান।