
গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের কাশিমপুর থানাধীন ১নং ওয়ার্ডের লস্করচালা এলাকায় সরকারি খাস জমি জবরদখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ওয়াংস টেক্সটাইল লিমিটেড। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, লস্করচালা মৌজার এসএ ও আরএস ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত দাগ নং ৫৮ এবং আরএস দাগ নং ৯৯-এর প্রায় ৪০ শতাংশ সরকারি জমি দীর্ঘদিন ধরে সরকারের মালিকানাধীন সম্পত্তি হিসেবে সংরক্ষিত ছিল। জমিটি সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (ডিসি অফিস) কর্তৃক সেখানে একটি সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছিল।
সাইনবোর্ডে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, “বর্ণিত সরকারি সম্পত্তিতে বিনা অনুমতিতে অনুপ্রবেশ দণ্ডনীয় অপরাধ। আদেশক্রমে যথাযথ কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।” কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ওই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় জমিটি দখল করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কিছু অসাধু ব্যক্তি ও প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় সরকারি জমিটি একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দখলে চলে যায়। পরবর্তীতে জমিটির চারপাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তির মতো ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আইন ও জনস্বার্থের পরিপন্থী।
অভিযোগকারীরা জানান, একসময় জমিটিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, ফলজ ও বনজ বৃক্ষ ছিল। দখল প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এসব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এতে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা। তাদের মতে, নগরায়ন ও শিল্পায়নের নামে একের পর এক সরকারি জমি এবং সবুজ এলাকা দখল হয়ে গেলে পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, রাতের আঁধারে এবং বিভিন্ন কৌশলে সরকারি জমি দখল ও হস্তান্তরের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী চক্র বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা সরকারি খাস জমি উদ্ধার, দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্মাণকাজের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ওয়াংস টেক্সটাইল লিমিটেডের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য জানা যায়নি।