
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কাশিমপুরে সরকারি খাস জমি ও পুকুর দখল করে টিনশেড মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে সরকারি জমি ও পুকুর দখলমুক্ত করে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাশিমপুর ভূমি অফিসের আওতাধীন কাশিমপুর ১ নম্বর ওয়ার্ডের পানিশাইল মোড় এলাকায় সরকারি ডিসি (খাস) জমিতে দোকানপাট ও মার্কেট নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, দক্ষিণ পানিশাইল মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত আরএস দাগ নম্বর ২০৬-এর প্রায় ২০ শতাংশ চালা জমি এবং ২০৭ নম্বর দাগের ৬২ শতাংশ পুকুর শ্রেণির জমির ওপর এ নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারি সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। স্থানীয় সূত্রে জসিম, নাসির খান, আলমগীর খান, রহমত আলী, ফজলু খান ও হাসান মোল্লার নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি পুকুরটি শুধু পরিবেশগত দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এলাকার অগ্নিকাণ্ডের সময় এটি জরুরি পানির উৎস হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। তাদের ভাষ্য, আশপাশে কোনো বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিস এই পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারবে। পুকুরটি ভরাট বা দখল হয়ে গেলে ভবিষ্যতে জরুরি পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।
এছাড়া স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নির্মাণকাজের কারণে সরকারি সম্পত্তি বেহাত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। কিছু গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তারা মনে করেন, জলাশয় ও সবুজ পরিবেশ রক্ষা না করলে ভবিষ্যতে পরিবেশগত ভারসাম্য আরও বিঘ্নিত হতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি পুকুরটি দখলমুক্ত করে পুনঃখননের উদ্যোগ নিতে হবে। পুনঃখনন করা হলে পুকুরটির পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণও উপকৃত হবে।
এ বিষয়ে কাশিমপুর ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নোটিশ দেওয়ার পরও সরকারি জমিতে কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সরকারি খাস জমি ও পুকুর রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন, ভূমি প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।