
নিজস্ব প্রতিনিধি
গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত ‘প্রিন্স মেডিকেল হল’-কে কেন্দ্র করে অনুমোদনের সীমা ছাড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সুভাষ চন্দ্র রায়, যিনি একজন পল্লী চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রিন্স মেডিকেল হলে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি প্রতিদিনই রোগীদের ভিড় দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ রোগের পাশাপাশি শিশু, প্রসূতি, অর্থোপেডিক ও দাঁতের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয় সেখানে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ওষুধ লিখে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এলাকার অনেক বাসিন্দা জানান, সুভাষ চন্দ্র রায় দীর্ঘদিন ধরে পল্লী চিকিৎসক হিসেবে সেবা দিয়ে আসছেন। কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার আশায় প্রতিদিন অনেক মানুষ তার কাছে আসেন। অনেকেই তাকে ‘শিশুবিশেষজ্ঞ ডাক্তার’ হিসেবেও চেনেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগী বলেন, স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় বলেই তারা এখানে আসেন। তবে তিনি কোন ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার অনুমোদনপ্রাপ্ত, সে বিষয়ে তাদের স্পষ্ট ধারণা নেই।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, নির্ধারিত কার্যপরিধির বাইরে গিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ভুল রোগ নির্ণয় বা অনুপযুক্ত ওষুধ প্রয়োগের কারণে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটার আশঙ্কা থাকে।
এ বিষয়ে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুন বলেন, “ফার্মেসির আড়ালে কেউ অনুমোদনের বাইরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, জনস্বার্থে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।