
আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের বেরন মানিকগঞ্জ পাড়া এলাকায় এক শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে আটকে রেখে মারধর করে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অভিযুক্তরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে ছিনতাইকৃত মালামাল ফেরত দিলেও, পরে উল্টো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে শিক্ষার্থী নাহিদ -কে চুরির অপবাদ দিয়ে ধরে নিয়ে যায় মোঃ মঞ্জু ও মামুন।
পরে তাকে নির্মমভাবে মারধর করে তার কাছ থেকে নগদ ১৩,৫০০ টাকা এবং একটি Realme অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর ভুক্তভোগী নাহিদ আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে এসআই বছিরের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ সময় স্থানীয় সাংবাদিকরাও তথ্য সংগ্রহে সেখানে যান।
পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযুক্তরা ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনটি ফেরত দিতে বাধ্য হয় এবং ঘটনাস্থলেই নিজেদের অপরাধ কার্যত স্বীকার করে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়া এবং পুলিশের হস্তক্ষেপে মালামাল উদ্ধার হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্ত মঞ্জু ও মামুন। নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে তারা উল্টো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই আশুলিয়া থানায় একটি বানোয়াট ও মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই কিংবা সাংবাদিকরা সত্য প্রকাশ করলে, তারা মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানির কৌশল নেয়। গণমাধ্যমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অপরাধ আড়াল করাই তাদের নিয়মিত কৌশল। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উল্টো মিথ্যা মামলার শিকার হওয়াকে তারা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, একজন নিরীহ শিক্ষার্থীর ছিনতাইকৃত সম্পদ উদ্ধারে সহযোগিতা করাই যদি অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলবে। অবিলম্বে ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।