
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কাশিমপুর থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগ উঠলেও পরবর্তীতে মামলায় উল্লেখিত ইয়াবার পরিমাণ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা খালিদের নেতৃত্বে পানিশাইল মোল্লাপাড়া এলাকায় একটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইলিয়াস মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, তার কাছ থেকে আনুমানিক ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও পরবর্তীতে মামলায় ২১০ পিস ইয়াবা উল্লেখ করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
একই এলাকায় জুলহাস নামের আরেক ব্যক্তিকে আনুমানিক ৭০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হলেও মামলায় মাত্র ১৭ পিস ইয়াবা দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে কাশিমপুরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জরুন এলাকা থেকে আরিফ নামের এক ব্যক্তিকে আনুমানিক ৯০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। কিন্তু গত ২৬ মে তাকে মাত্র ৪ পিস ইয়াবা উল্লেখ করে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এ ধরনের একাধিক ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযানের সময় ঘটনাস্থলেই উদ্ধারকৃত মাদক গণনা ও জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে সঠিক পরিমাণ প্রকাশ করা হয় না। বরং থানায় নিয়ে পরবর্তীতে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয় বলে তারা দাবি করেন। ফলে উদ্ধারকৃত মাদকের প্রকৃত পরিমাণ এবং মামলায় উল্লেখিত পরিমাণের মধ্যে গরমিল নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, যদি ঘটনাস্থলে অধিক পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে মামলায় কম দেখানো হচ্ছে কেন? উদ্ধার হওয়া বাকি ইয়াবার হিসাব কোথায়? মাদক উদ্ধারের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলেই উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আলামত গণনা, জব্দ তালিকা প্রস্তুত এবং উদ্ধারকৃত মাদকের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করা জরুরি। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং এ ধরনের বিতর্কের অবসান ঘটবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা খালিদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, উদ্ধারকৃত মাদকের প্রকৃত হিসাব প্রকাশ এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।