
নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের দায়িত্বহীনতা আর চরম গাফিলতির সুযোগে পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়েছে ৩২টি মামলার পলাতক আসামি সম্রাট। গত সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে দুর্ধর্ষ এই আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি নিছক অবহেলা, নাকি মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে তাকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র বলছে, র্যাব-১ এর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর সম্রাটকে আইন অনুযায়ী সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, যথাযথ নিরাপত্তা ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ তাকে আদালতে হাজির করার দায়িত্ব ছিল সদর থানার এসআই মঞ্জুরুলের ওপর। কিন্তু হাজতখানার নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে দিনের আলোয় সম্রাট কীভাবে পালিয়ে গেল, তা নিয়ে জনমনে প্রবল সংশয় তৈরি হয়েছে।
থানার অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, কোনাবাড়ি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) নাসের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সদর জোনের তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন। একই সঙ্গে দুই জোনের গুরুদায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তদারকি ও নজরদারিতে যে চরম ঘাটতি তৈরি হয়েছে, আজকের এই ঘটনা তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনিক এই দুর্বলতাকে পুঁজি করেই অপরাধী পুলিশের চোখ ফাঁকি পালিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, আসামি গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, সিস্টেমের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা যাদের গাফিলতিতে এই পলায়ন, তাদের বিরুদ্ধে কি কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে? নাকি বরাবরের মতো বিভাগীয় তদন্তের নামে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হবে?
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর আদালতের হাজতখানা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। নিয়মিত উৎকোচের বিনিময়ে গ্রেফতার হওয়া অপরাধীদের স্বজনদের সঙ্গে গোপন সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার সেই দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ব্যবহার করেই সম্রাট পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে উধাও হয়ে গেল। একজন দুর্ধর্ষ ও ৩২টি মামলার আসামির পলায়ন জননিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের এমন ঢিলেঢালা নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেখানে একজন দুর্ধর্ষ আসামিকে আটকে রাখতে পারে না, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ চরম হুমকির মুখে।
এ বিষয়ে হাজতখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই বাবরের দাবি, তিনি ওই সময় উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি দায় এড়াতে তিনি দাবি করেন, সদর থানা পুলিশ আসামিকে তাদের কাছে যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেয়নি। অন্যদিকে, সদর থানার ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান দায়সারাভাবে শুধু স্বীকার করেছেন যে, আদালতে নেয়ার পর আসামী পালিয়ে গেছে। পুলিশের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য প্রকৃত সত্যকে আড়ালের চেষ্টাই কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।