
গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরে অনুমোদনহীনভাবে ব্যাটারি উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগে দুটি কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে কারখানা দুটির কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন আইনে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা এনএসআই কার্যালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে কাশিমপুর থানাধীন ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পানিশাইল এলাকার ‘টংগুইদা’ নামের একটি কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে অবৈধভাবে ব্যাটারি উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালেহুর রহমান।
অভিযানকালে কারখানাটিতে বিএসটিআইয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই ব্যাটারি উৎপাদন ও বাজারজাত করার সত্যতা পাওয়া যায় বলে জানানো হয়। পরে বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর ১৫(২৭) ধারা অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮-এর ৪০, ২৪ ও ৫৫ ধারায় আরও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অর্থাৎ ওই কারখানাটিকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা আদায় করা হয়।
অন্যদিকে, কাশিমপুর থানার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাধবপুর এলাকায় অবস্থিত চীনা মালিকানাধীন ‘টাইগার ব্যাটারি’ নামের আরেকটি কারখানায় অভিযান চালানো হয়। কারখানাটিতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কাগজপত্র ছাড়াই ব্যাটারি উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর ৩১ ধারা অনুযায়ী কারখানা কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
দুটি কারখানায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে সর্বমোট ২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনুমোদনহীন এসব কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটারি উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়ে থাকলে বিষয়টি জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও ভোক্তা নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তাদের অভিযোগ, যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণ ও অনুমোদন ছাড়া উৎপাদিত ব্যাটারি বাজারে ছড়িয়ে পড়লে নিম্নমানের পণ্য ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তারা আরও বলেন, অনুমোদনহীনভাবে ব্যবসা পরিচালনার ফলে একদিকে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে, অন্যদিকে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রতিযোগিতায় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাই কাশিমপুরের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অনুমোদনহীন কারখানা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন, মাননিয়ন্ত্রণ সনদ ও আইনগত কাগজপত্র থাকা জরুরি। এসব শর্ত না মেনে কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।