
নিজস্ব প্রতিনিধি
গাজীপুরের কাশিমপুরে বেক্সিমকো কোম্পানির ফাঁকা জায়গা থেকে হৃদয় (২৪) নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে কাশিমপুর থানাধীন তেতুইবাড়ি-মায়ানগর এলাকার ওই স্থান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত হৃদয় ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন পূর্ব বাইদগ্রাম এলাকার মো. আইয়ুব রানার গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা ভাড়ায় নিয়ে চালাতেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে অটোরিকশা নিয়ে বের হন তিনি। রাত আনুমানিক ১১টা পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা গ্যারেজ মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পরে অটোরিকশায় থাকা জিপিএস ট্র্যাকার থেকে পাওয়া লোকেশন অনুসরণ করে গ্যারেজ মালিক তার সহযোগীদের নিয়ে আশুলিয়া থানাধীন কাঠগড়া এলাকায় যান। সেখানে রাত আনুমানিক ২টার দিকে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয় এবং হৃদয়ের ব্যবহৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় আরও তিনজন পালিয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে।
আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হৃদয়ের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন কাশিমপুরের তেতুইবাড়ি-মায়ানগর এলাকায় বেক্সিমকো কোম্পানির ফাঁকা জায়গায় যান। সেখানে হৃদয়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন।
পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, বিষয়টি আশুলিয়া থানাকে অবহিত করা হলে কাঠগড়া এলাকা থেকে আটক দুই ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
হৃদয়কে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল এবং ঘটনায় মোট কতজন জড়িত—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের পর বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তেতুইবাড়ি-মায়ানগর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃ
ষ্টি হয়েছে।