
নিজস্ব প্রতিনিধি
গাজীপুরের কাশিমপুর ১ নং ওয়ার্ডের পানিশাইল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে অবস্থিত গাজীপুর ৩ নং সরকারি ইপিআই (EPI) টিকাদান কেন্দ্রে ভয়াবহ অনিয়ম ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠেছে।
সিভিল সার্জনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দুগ্ধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দিয়ে কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালনা, টিকার কার্ড বিক্রি এবং নবজাতকের মায়েদের গুঁড়ো দুধ খাওয়ানোর প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরা দেরিতে কেন্দ্রে উপস্থিত হন। অথচ ভোর ৭টা থেকেই শতাধিক মা ও শিশু লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়ায় অনেক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী না হয়েও কয়েকজন দুগ্ধ কোম্পানির প্রতিনিধি টিকাদান কেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত রয়েছেন। তাদেরকে সরকারি খাতা ও নথিপত্র নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রাজিব নামের এক দুগ্ধ কোম্পানির প্রতিনিধিকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি দাবি করেন, তারা অনুমতি নিয়েই সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কোন দপ্তর থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, স্বাস্থ্য ইনচার্জ লিপি আক্তারই তাদের সেখানে কাজ করার অনুমতি দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, টিকাদান কেন্দ্র থেকে সরকারি টিকার কার্ড ১০০ থেকে ২০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া দুগ্ধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা নবজাতকের মায়েদের বুকের দুধের পরিবর্তে তাদের বাজারজাত গুঁড়ো দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন এবং নিজেদের পণ্যের প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা সরকারি স্বাস্থ্যবিধির পরিপন্থী।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ইনচার্জ লিপি আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি। বরং বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ার পর দুগ্ধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়নি।
গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মামুনুর রহমান জানান, এর আগেও অনিয়মের অভিযোগে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দুগ্ধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের টিকাদান কেন্দ্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি বিনামূল্যের সেবা নিতে এসে টাকা দাবি ও দালালচক্রের হয়রানিতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে এ অনিয়ম বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।