
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ঢাকা বিভাগের কালিয়াকৈর রেঞ্জের আওতাধীন মৌচাক বন বিটের বড়চালা এলাকায় সরকারি বনভূমির গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাতের আঁধারে গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগের পাশাপাশি এ ঘটনায় মৌচাক বন বিট কর্মকর্তা শাহজাহান ও মৌচাক মডেল পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক রশিদকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বড়চালা এলাকায় সরকারি বনভূমির গাছ বিভিন্ন সময় কেটে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু গাছ রাতের আঁধারে কেটে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া ও বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ভিডিওচিত্র ধারণের পাশাপাশি স্থানীয়দের বক্তব্য নেওয়া হয়। পরে বন বিভাগের বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা যান ঢাকা বিভাগের কালিয়াকৈর রেঞ্জের আওতাধীন মৌচাক বন বিট কার্যালয়ে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, সেখানে বিট কর্মকর্তা শাহজাহানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি কার্যালয়ের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তাঁর কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরে পুনরায় তথ্য সংগ্রহের সময় বিট কর্মকর্তা শাহজাহানের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা কাটাকাটি হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগের পদক্ষেপ জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগের উৎস জানতে চান বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি বনভূমির গাছ কাটার অভিযোগ থাকলে বিষয়টি তদন্ত ও নজরদারির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের। তাহলে অভিযোগের বিষয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে মৌচাক মডেল পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক রশিদের বিরুদ্ধেও সরকারি বনভূমির গাছ কাটার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনোটি এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে একই বিদ্যালয়ে কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার অভিযোগও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সরকারি বনভূমির গাছ কাটার অভিযোগের পাশাপাশি বন বিভাগের নজরদারি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকা এবং গাছ কাটার ঘটনায় কারা জড়িত—এসব বিষয় এখন তদন্তের দাবি রাখে।
তবে বন কর্মকর্তা শাহজাহান বা প্রধান শিক্ষক রশিদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ, যোগসাজশ কিংবা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তদন্ত ছাড়া চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত বলে বিবেচনা করা যাবে না। প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য।
সরকারি বনভূমির গাছ কাটার অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং বনভূমি রক্ষায় কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।