
নিজস্ব প্রতিনিধি
শরিয়তপুর ভেদরগঞ্জ উপজেলার ভূমিসেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষ, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
শরীয়তপুরের ভেদেরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় এক মাস ধরে সাতটি আঞ্চলিক ভূমি অফিসে মিউটেশন বা নামজারি কার্যকরের কার্যক্রম বন্ধ থাকার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আবুবকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জমির মালিক ও ভূমিসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে সরকারি রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইউএনও মোঃ আবুবকর সিদ্দিক ভেদেরগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মিউটেশন কার্যকরের প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। উপজেলার সাতটি আঞ্চলিক ভূমি অফিসে এ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জমির নামজারি সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করেও চূড়ান্ত কার্যক্রমের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীদের।
ভেদেরগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন সখিপুর ভূমি অফিস (ক), সখিপুর ভূমি অফিস (খ)-সহ সাতটি আঞ্চলিক ভূমি অফিসে মিউটেশন কার্যকর না হওয়ায় প্রতিদিনই নতুন করে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অনেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি ফি জমা দিয়ে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
এতে জমি ক্রয়-বিক্রয়, মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র হালনাগাদ এবং অন্যান্য জরুরি কাজে সমস্যার মুখে পড়ছেন ভূমির মালিকরা। নির্ধারিত সময়ে সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকার কারণে কেন উপজেলার সাতটি ভূমি অফিসের মিউটেশন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল হয়ে থাকবে? প্রশাসনিক সমস্যার দায়ভার সাধারণ মানুষ কেন বহন করবেন? পাশাপাশি দীর্ঘদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সরকারও সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে ভেদেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবুবকর সিদ্দিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় তিনি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মিউটেশন কার্যকর বন্ধ থাকার বিষয়ে তাঁর কিছু করার নেই। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এসিল্যান্ডের পদ শূন্য থাকলে বিকল্প প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভূমিসেবা স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না? কবে নাগাদ সাতটি আঞ্চলিক ভূমি অফিসে মিউটেশন কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো সমাধান না পাওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন সাধারণ ভূমিসেবাপ্রত্যাশীরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করে সাতটি আঞ্চলিক ভূমি অফিসে মিউটেশন কার্যকরসহ সব ধরনের ভূমিসেবা স্বাভাবিক করা হোক।