
নিজস্ব প্রতিনিধি
গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাতীমারা এলাকায় অবস্থিত রিয়াজ নীটওয়্যার লিমিটেডের পাশের একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, হাসনা বেগম ও হামিদুর রহমান পিন্টু হেবাসূত্রে গোবিন্দবাড়ি মৌজার ৫৫৭ নম্বর জে.এল. এর ২৭৫ ও ৯৮০ নম্বর বেল এওয়াজ খতিয়ানভুক্ত মোট ১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমির মালিক। তারা দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে জমিটি ভোগদখলে রয়েছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, রিয়াজ নীটওয়্যার লিমিটেডের স্বার্থে স্থানীয় ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে ওই জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ডালু, ববি, সানি, মান্নানসহ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল ওই জমিতে গিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় জমির সীমানা ঘেঁষা টিনের বেড়া ভাঙচুর করা হয় এবং সেখানে থাকা ভাড়াটিয়া দোকানদারদের দোকান স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে জমির মালিক হামিদুর রহমান জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে প্রশাসনের সহযোগিতা চান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই করে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেয় এবং অভিযুক্তদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়।
জমির মালিক হামিদুর রহমান বলেন,
“আমি লেখাপড়া জানি না। স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি আমাকে রিয়াজ নীটওয়্যার কারখানার ভেতরে নিয়ে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। পরে তারা জমির কাগজপত্র যাচাই করে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার আশ্বাস দিলেও আর কোনো বৈঠক করেনি। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ করেই কয়েকজন সন্ত্রাসী এসে আমার ভাড়া দেওয়া দোকানদারদের হুমকি দেয় এবং টিনের বেড়া ভাঙচুর করে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডালুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“আমি পাওয়ার সূত্রে মালিক। অভিযোগকারী হামিদুর রহমান যে দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করছেন, সেখানে দাগ ও খতিয়ান ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেই ভুল দলিল দেখিয়ে খাজনা-খারিজও করা হয়েছে। এ কারণেই বৃহস্পতিবার সকালে আমরা ওই জমিতে গিয়েছিলাম।”
অভিযোগে রিয়াজ নীটওয়্যার লিমিটেডের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।