
মোঃ আকরাম হোসেন স্টাফ রিপোর্টার
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে বিদ্যুৎ এর ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ জনজীবন।অন্ধকার কাটাতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতে এর দাবি নিয়ে গত ৩০ শে মে শনিবার বেলা ১১টায় কালিগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসের সামনে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন করার পরেই বিদ্যুৎ কতৃপক্ষ আস্বস্ত করেছিলেন ৯০% বিদ্যুৎ সাপলাই দেওয়ার,সে থেকে কোনো রকম প্রতিকার পায়নি জনগন।দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিদ্যুৎ সংকট জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ,প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে হাজারো পরিবার।তবে সেদিন মানববন্ধনে বক্তারা বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিয়ম,লো-ভোল্টেজ এবং গ্রাহকসেবার অবনতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।তাৎক্ষনিক মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী জনপ্রতিনিধিদের একটি প্রতিনিধি দল পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম (উপমহাব্যবস্থাপক)-এর সঙ্গে আলোচনায় বসেন।আলোচনাসভায় এলাকাবাসীর বিভিন্ন অভিযোগ ও দীর্ঘদিনের ভোগান্তির বিষয়গুলো তুলে ধরেন।স্থানীয়দের অভিযোগ,বিদ্যুৎ অফিসের কল সেন্টারের ফোন বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে।অথবা ফোন করলেও কর্মকর্তারা ফোন রিসিভ করেন না।ফলে আকস্মিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট,লাইন ত্রুটি কিংবা জরুরি সমস্যার সময় গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন।এ কারণে গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।তাছাড়াও বিদ্যুৎ অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে দায়িত্বহীনতা ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলেছেন কালীগঞ্জ উপজেলার সচেতন নাগরিকরা।তাছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ,সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমতা গ্রহণের প্রেক্ষাপটের সাথে এই কৃত্রিম বিদ্যুৎ সংকটের গভীর যোগসূত্র রয়েছে।জনমনে তীব্র গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে যে,নতুন সরকারকে বিতর্কিত করতে একটি কুচক্রীমহল ইচ্ছাকৃতভাবে এই সংকট তৈরি করছে।বিদ্যুৎ সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা,কৃষি ও মৎস্যখাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক সময় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে,সেচ কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।বিদ্যুত সংকটে কালীগঞ্জবাসীর ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে উঠেছে। ফ্রিজে রাখা জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে,কলকারখানার উৎপাদন স্থবির এবং প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে,লোডশেডিংয়ের এই মরণকামড়ে সাধারণ মানুষের ধৈর্য্য এখন সীমার বাইরে চলে গেছে।কালীগঞ্জ উপজেলাবাসীর স্পষ্ট দাবি— অনতিবিলম্বে সকল সিন্ডিকেট ভেঙেদিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে।এবং অতি দ্রুত কালীগঞ্জের সাধারণ মানুষকে এই চরম ভোগান্তি থেকে মুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।অন্যথায়,এই অঞ্চলের ক্ষোভ যেকোনো মুহূর্তে বৃহত্তর আকার ধারন কটবে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে,বিদ্যুৎ এর সকল প্রকার সমস্যার সমাধানে দ্রুত কার্যকর এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলাবাসীর সকল শ্রেনী পেশার মানুষ।