
আশুলিয়ার গোরাট এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা, ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ২০ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১১টা ৫৫ মিনিটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।
ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ আব্দুর রশিদ (৪৮) বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গোরাট পাকার মাথায় অবস্থিত তার ইন্টারনেট অফিস ‘মাদবর নেটওয়ার্ক সার্ভিস’-এ জিলুর রহমান মাস্টারের নেতৃত্বে সাজু মন্ডল, রাজিব, মাট্টু, ইয়ার হোসেন, শাহীন সরকার, শাহাদুল, আসাদুল, মনির, জহিরুলসহ (সকলের বাড়ি গোরাট এলাকায়) আরও অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন সহযোগী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা দলবদ্ধভাবে অফিসে প্রবেশ করে বসার আসবাবপত্র, কম্পিউটার ও বিভিন্ন নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম রড দিয়ে পিটিয়ে ভাংচুর করে। পরে তারা ইন্টারনেট সার্ভারের কক্ষে থাকা মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, ভাংচুরে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা এবং লুট হওয়া মালামালের মূল্য আনুমানিক ২০ লক্ষ টাকা, যা মোট ক্ষতির পরিমাণ ২৫ লক্ষ টাকারও বেশি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযুক্তরা তার প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। হামলার সময় তাকে ও তার কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি, আইনের আশ্রয় নিলে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে – হামলাকারীরা যদি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাংচুর করে ডিভিআর লুট করে নিয়ে না যায়, তাহলে সেই ডিভিআরে সংরক্ষিত ফুটেজ অভিযুক্ত জিলুর রহমান মাস্টার এবং তার লোকজনের কাছে কীভাবে পৌঁছায়?
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর থেকেই এই ফুটেজ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে, যা পুরো ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে। তদন্তের স্বার্থে এই বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি।
তবে এর আগে রুবেল হাওলাদার, অফিসার ইনচার্জ, আশুলিয়া থানা, জানান, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।