
নিজস্ব প্রতিনিধি
গাজীপুরের কাশিমপুরে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে লতিফপুর মণ্ডল নগর বার্ষিক ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। জমজমাট ফাইনাল ম্যাচে জুনিয়র একাদশকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মণ্ডল নগর কিংস।
বুধবার বিকেলে কাশিমপুরের মনপুরা পার্ক সংলগ্ন মাঠে লতিফপুর যুব সমাজের আয়োজনে এ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলাকে ঘিরে লতিফপুর এলাকা পরিণত হয় ফুটবলপ্রেমীদের মিলনমেলায়। আমন্ত্রিত অতিথি ও কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় জুনিয়র একাদশ ও মণ্ডল নগর কিংস। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠজুড়ে। উভয় দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেললেও শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় মণ্ডল নগর কিংস। এর মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে দলটি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আলহাজ্ব মেজবাহ উদ্দিন মণ্ডল। ফাইনাল ম্যাচের উদ্বোধন করেন কাশিমপুর থানা বিএনপির সদস্য হাজী আব্দুল মজিদ মণ্ডল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাশিমপুর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাশিমপুর থানা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন মৃধা, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সাইদুর রহমান, কাশিমপুর থানা যুবদলের আহ্বায়ক মো. দেলোয়ার হোসেন মণ্ডল এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মো. হাফিজ উদ্দিন খান। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন মো. আলিমউদ্দিন।
খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন মণ্ডল নগর কিংস দলের হাতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি এলইডি টেলিভিশন এবং রানার্সআপ জুনিয়র একাদশের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি শওকত হোসেন সরকার বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
আয়োজকরা বলেন, খেলাধুলা তরুণ সমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মাদক, অপরাধ ও বিভিন্ন সামাজিক অনাচার থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত এমন ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে একটি সুস্থ, সুন্দর ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পর এমন বড় পরিসরে ফুটবল আয়োজন হওয়ায় এলাকার শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত রাখার দাবি জানান তারা।