
কাশিমপুর, গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কাশিমপুরে সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে একাধিক ঘর বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি সুবিধাভোগী নির্বাচন ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় তৎকালীন সংশ্লিষ্ট ইউএনও এবং সুবিধাভোগী যাচাই-বাছাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কাশিমপুর ১ নম্বর ওয়ার্ডের লস্করচালা মৌজায় নির্মিত সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পে এসব অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রকল্পটি নির্মাণ এবং সুবিধাভোগীদের মধ্যে ঘর বিতরণ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মতিলাল, তার স্ত্রী শান্তি, মেয়ে লক্ষ্মীরানী এবং ছেলে সাধন কুমারের নামে সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ একই পরিবারের একাধিক সদস্য সরকারি ঘরের সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও সুমন, তার ভাই শুভ এবং তাদের মা মুক্তির নামেও সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
বিষয়টি নিয়ে সুমনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে একই পরিবারের তিন সদস্যের নামে ঘর বরাদ্দের বিষয়ে তিনি পরে জানাবেন বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
অন্যদিকে মতিলালের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের পরিবারের একাধিক সদস্য সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর পেয়েছেন।
সরেজমিনে আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বরাদ্দ দেওয়া বেশ কয়েকটি ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ঘরে নিয়মিত কেউ বসবাস করেন না।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য সরকারের নেওয়া আশ্রয়ন প্রকল্পে একই পরিবারের একাধিক সদস্য কীভাবে একাধিক ঘরের সুবিধা পেলেন? সুবিধাভোগী নির্বাচনের আগে তাদের পারিবারিক, আর্থিক ও ভূমি সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আশ্রয়ন প্রকল্পের সুবিধাভোগী নির্বাচন ও ঘর বিতরণের সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ তদারকি করা হয়নি। ফলে তৎকালীন সংশ্লিষ্ট ইউএনওসহ সুবিধাভোগী যাচাই-বাছাই কমিটি এবং ঘর বিতরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, আশ্রয়ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সম্পূর্ণ তালিকা পুনরায় যাচাই করা হোক। একই পরিবারের একাধিক সদস্য কীভাবে সরকারি ঘর পেয়েছেন, ঘর বরাদ্দের ক্ষেত্রে কারা দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করা হোক।
তাদের আরও দাবি, অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তৎকালীন সংশ্লিষ্ট ইউএনও, সুবিধাভোগী যাচাই-বাছাই কমিটি এবং ঘর বিতরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তৎকালীন ইউএনও এবং গাজীপুর জেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
সরকারের মহৎ উদ্দেশ্যে নির্মিত আশ্রয়ন প্রকল্প অসহায়, ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয় হওয়ার কথা। কিন্তু একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে একাধিক ঘর বরাদ্দ এবং কয়েকটি ঘর দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকার অভিযোগে এখন প্রশ্ন উঠেছে—কাশিমপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বিতরণ প্রক্রিয়ায় প্রকৃতপক্ষে কতটা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছিল?